রাত পোহালেই ৩ সিটিতে ভোট

*মাঠে র‌্যাব-বিজিবি *নির্বাচনীসামগ্রী বিতরণ আজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৮, ০৯:৪১

গাজী শাহনেওয়াজ

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ভোটসামগ্রী বিতরণ শুরু হবে। সিটির অস্থায়ী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এ সামগ্রী বুঝে নেবেন ভোট কর্মকর্তারা। তিন সিটিতেই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কারণ রাত পোহালেই ভোট।

ভোট উপলক্ষে সিটি এলাকায় ছুটি থাকবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন সে জন্য কমিশন এ সুবিধা রেখেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে ।

গতকাল মধ্যরাতে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারযুদ্ধ শেষ করেছে। ইসির বিধি অনুযায়ী, ভোট শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে শেষ হয় প্রচার। পাড়া-মহল্লা, বাড়ি-বাড়ি ভোট চেয়েছেন তারা। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি; অঙ্গীকার দিয়েছেন উন্নয়নের। প্রচার শেষ হওয়ায় নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আজ দিনভর চলবে তাদের নানা অঙ্ক কষার পালা। হিসাব মেলাতে ব্যস্ত থাকবেন প্রচারে নিযুক্তরা।

নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। মাঠে নেমেছে র‌্যাব-বিজিবি। সকাল থেকেই পুরো সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দেওয়া শুরু করেছে। ভোটের দিন পর্যন্ত এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সচিব।

রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে বিএনপি প্রার্থীর তুলনায় প্রচারে বেশি তৎপর ছিলেন নৌকা সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। তবে, কামরান ও লিটনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাণপণ প্রচারে লড়েছেন বুলবুল ও আরিফুল। তবে, ব্যতিক্রমী ছিল বরিশাল সিটি নির্বাচনী এলাকা। নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং প্রচারণায় উত্তেজনা ছড়িয়েছেন।

তবে প্রার্থীদের বাইরে নিজ নিজ দলীয় কেন্দ্রীয় নেতারা এ বিতর্কে শামিল হন। বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন ক্ষেত্র বিশেষে। পিছিয়ে ছিলেন না আওয়ামী লীগ-বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারাও। নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা কি হবে এ নিয়ে নীরব উত্তাপ রয়েছে তিন সিটিতে। খুলনা ও গাজীপুর সিটির আদলে নির্বাচন, নাকি শান্তিপূর্ণ ভোট হবে এ নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে। এত কিছুর পরও শঙ্কামুক্ত নির্বাচন দেখতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে ভোটাররা।

এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। পাশাপাশি থাকবে দেশীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকরা তো থাকছেই। সব মিলিয়ে কেমন ভোট হয় তিন সিটিতে সে জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন দেশের সাধারণ মানুষ। কারণ এ নির্বাচনের ফল বলে দেবে দোরগোড়ায় কড়া নাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে।

এদিকে, শনিবার সকাল থেকেই তিন সিটিতে টহল দেওয়া শুরু করেছে র‌্যাব-বিজিবি। মুহূর্তেই সিটিগুলোর পরিবেশ বদলে যায়। উৎসুক জনতার ঢল নামে সড়কগুলোতে। প্রচারণা না থাকায় আজ প্রার্থীরা নির্বাচনী এজেন্ট, নিজ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করে তাদের ব্যস্ত সময় পার করেন। তবে, বিএনপির প্রার্থীদের শঙ্কা, সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারবেন কি না। সে দিক থেকে অনেকটা নির্ভার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তবে, পাল্লাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে রাত পোহালেই ভোট।

রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, তার সিটিতে ৩০ ওয়ার্ডের ১৩৮ ভোটকেন্দ্রে কক্ষের সংখ্যা ১০২৬টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ১৩৮ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ১০২৬ কক্ষে সম-সংখ্যক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং কক্ষে দুইজন করে ২০৫২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সাধারণ কেন্দ্রে আনসারসহ ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন নিরাপত্তা রক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন। আর পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল ফোর্স ৩০ জন ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০জন, প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে (৩০) টিম এবং প্রতি দুই ওয়ার্ডে বিজিবির ১ প্লাটুন অর্থাৎ ১৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। তবে, পুরুষের চেয়ে এখানে নারী ভোটার বেশি। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৫ জন।

বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, এ সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে কক্ষের সংখ্যা ৭৫০টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ১২৩ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৭৫০ কক্ষে সম-সংখ্যক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং কক্ষে দুইজন করে ১৫০০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

আর পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল ফোর্স ৩০ জন ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০ জন, প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে (৩০) টিম এবং প্রতি দুই ওয়ার্ডে বিজিবির ১ প্লাটুন অর্থাৎ ১৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। তবে, এ সিটিতে পুরুষ ভোটার বেশি। এ সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন ৬ জন।

সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, এ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে কক্ষের সংখ্যা ৯২৬টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ১৩৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯২৬ কক্ষে সম-সংখ্যক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং কক্ষে দুইজন করে ১৮৫৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

আর পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল ফোর্স ২৭ জন ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০ জন, প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে (২৭) টিম এবং প্রতি দুই ওয়ার্ডে বিজিবির ১ প্লাটুন অর্থাৎ ১৪ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। তবে, এ সিটিতে পুরুষ ভোটার বেশি। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৭ জন। তবে, তিন সিটিতে ঝুঁকিহীন আনসারসহ ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন সাধারণ নিরাপত্তা রক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ৩০ জুলাই তিন সিটিতে ১৮ জন মেয়র প্রার্থী লড়ছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৫ জন, বরিশালে ৬ জন এবং সিলেট সিটিতে ৭ জন। তবে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। প্রচার এবং আলোচনায় সরকার সমর্থিত মেয়র এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি প্রার্থীরা। তবে, তিন সিটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন ৫ জন।

পিডিএসও/হেলাল