ফলাফল যাই হোক মেনে নিবো : লিটন

প্রকাশ | ২৮ জুলাই ২০১৮, ১৮:২৩

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘আমি অতীতেও বলেছি, এখনো বলছি, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি মেনে নিবো। প্রতিপক্ষ প্রার্থীরও জনগণের রায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই বিএনপি বলে আসছে, নিবার্চন স্বচ্ছ হবে না, সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বদিচ্ছা নেই। এটি বিএনপি বাংলাদেশের সবখানে বলে, যেকোনও নির্বাচন আসলেই তারা এসব বলে। গত ১০ বছর ধরে শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। তাদের এসব কথায় রাজশাহীর মানুষও বিরক্ত হয়ে গেছে। খেলতে নেমেই তারা বলছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। এটি বলা তাদের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে।

লিটন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুলু রাজশাহীতে আসার খবরের পরই আমরা আশঙ্কা করছিলাম। তারপর ককটেল হামলার ঘটনা ঘটলো, বিএনপির গণসংযোগে। ঘটনাটি বিএনপি নিজেরাই ঘটালো। তিনি বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নাকি নদীর ধার ও রেললাইনের বস্তি উচ্ছেদ করবো-এমন মিথ্যাচার করছে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকরা। যেখানে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ছিন্নমূল-ভূমিহীন মানুষের জন্যে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন, সেখানে আমরা কেন বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করবো? অতীতেও এমন কিছু করিনি, আগামীতেও করবো না। বরং আমরা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো। জনগণের কল্যানে কাজ করবো। আগামীতে রাজশাহীর আয়তন বাড়ানো হবে। বর্ধিত অংশ যে গ্রামগুলো থাকবে, সেখানকার মানুষও নগর জীবনের সুযোগ-সুবিধা পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার পুত্র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই অপ্রপ্রচার ও মিথ্যাচার করে আসছে বিএনপি। নির্বাচনে বিজয়ী হলেই তাদের কাছে নির্বাচন সুষ্ঠু মনে হয়। আর হারলে বলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনে পুলিশকে ব্যবহারের আমাদের প্রয়োজন নেই। কারণ ইতোমধ্যে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি নৌকার বিজয় হবে।

তিনি আরো বলেন, গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট সংকট ছিল। রাজশাহীতে এজেন্ট সংকট আছে। তাদের এজেন্ট সংকটের ফলে তারা বিভিন্নভাবে আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে। লিটন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুরে রাজশাহী কলেজে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতবিনিময় সভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গত ৫ বছর দেশ এগিয়ে গেলেও রাজশাহী পিছিয়ে গেল। ঝকঝকে চকচকে শহর নোংরা-আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে। বিএনপির ব্যর্থ মেয়রের কারণে রাজশাহীর এই অবস্থা। রাজশাহীর মানুষএখন পরিবর্তন চায়।

 

পিডিএসও/রিহাব