আহমাদ উল্লাহর ‘কচুর পাতা ব্যাঙের ছাতা’

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪১ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৯

আল ফাতাহ মামুন

আহমাদ উল্লাহ মূলত শিশুদের জন্য লেখেন। নিজস্ব ঢং, ছন্দের জাদু এবং ব্যতিক্রমী বিষয় তাকে চিনিয়েছে আলাদা করে। অনেকেই তুলনা করেন ছড়ারাজ অন্দাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে। বলা হয়, অন্দার পর আহমাদ উল্লাহই ছন্দের তুলিতে এঁকেছেন ছড়ার রংধনু। যেখানে রয়েছে নানান স্বাধের নানান বোধের মজার মজার সব ছড়ার বড়া। ছন্দের দোলায় শিশুমনে আনন্দ এবং শুভ্রতা ছড়িয়েছেন বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। 

দীর্ঘ সময় লেখালেখি থেকে দূরে ছিলেন তিনি। বিরতি কাটেন ‘ছড়া পাতার নৌকা’ বেয়ে। লেখায় ফিরেই জাত চিনিয়েছেন সত্তরের ছড়া সাধক আহমাদ উল্লাহ। এ সময়ের সবাইকে পেছনে ফেলে লুফে নেন অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭। এবারের মেলায় এসেছে তার আরেকটি অনবদ্য ছড়াগ্রন্থ ‘কচুর পাতা ব্যাঙের ছাতা’। ২৮ পৃষ্ঠার বইটিতে ছড়া আছে মোট চব্বিশটি। 

ছড়ার বড়া, কচুর ফুল, ভুতের পুত, অদ্ভুদ কাণ্ড’র মতো পেটে খিল ধরানো ছড়া যেমন আছে বইটিতে, তেমনি আছে ভাবনার পাখি, আমার মায়ের মন বনে, মন ভেঙো না কারো’র মত শিশুমনে দাগ কাটানো ছড়াও। ভুতের পুত ছড়াটি শুনি—অই মিয়া অই/এক্ষুনি ছিলে তুমি/দেখছি না কই।/এই মিয়া এই/এইখানে দেখলাম/আর এখন নেই।/ব্যাপারটা সত্যি/ভারি অদ্ভুত!/এই-অই মনে হয়/ভুতুদের পুত।

এবার মন ভেঙো না কারো ছড়াটি দেখি—মনের নদী/ভেতর বুকে বয়।/মনের সঙে মনের পরিচয়।/মন ভেঙে দেয় চিন্তা/পাড় ভেঙে দেয় ঢেউ।/মন-নদীটার খোঁজ রাখে না/যুবক বেলায় কেউ।/এই সাধনা/করতে যদি পারো,/মন ভেঙো না কারো।

হাসির ছলে গভীর কথা বলতে পারাই বোধ হয় আহমাদ উল্লার কৃতিত্ব। কচুর পাতা ব্যাঙের ছাতায়ও এই অসাধারণ পারিদর্শিতা ফুটে ওঠেছে আহমাদ উল্লাহর নিজস্ব ঢংয়ে। বইটির প্রচ্ছদ এবং ভেতরের ছবি এঁকেছেন গৌতম ঘোষ। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বইটির মূল্য ১৬০ টাকা।

পিডিএসও/হেলাল