নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনকে স্মরণ

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৪ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৭

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

আজ ১৪ জানুয়ারি নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের একাদশ প্রয়াণ দিবস। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। তার অকাল প্রয়াণে বাংলাদেশের সংস্কৃতির অপূরণীয় যেই ক্ষতি হয়েছে তা আজীবনই অপূরনীয় থেকে যাবে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সেলিম আল দীনের।

তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই। ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ১৯৮১-৮২ সালে আমৃত্যু শিল্পসঙ্গী নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন গ্রাম থিয়েটার। মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তার সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

এ উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা থিয়েটার দুই দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে স্মরণ শোভাযাত্রা ও সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টায় 'বারীণ ঘোষ-এর ক্যামেরায় সেলিম আল দীন' শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

আজ সেলিম আল দীনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ঢাকা থিয়েটারের স্মরণ উৎসব আয়োজন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে আগামী ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমিতে সেলিম আল দীনের রচনায় এবং ঢাকা থিয়েটারের প্রযোজনায় 'পুত্র' নাটকটি প্রদর্শিত হবে। পরদিন সেলিম আল দীনের লেখা 'শকুন্তলা'র ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় 'পুত্র' নাটকটির চতুর্থ মঞ্চায়ন হবে। 

সেলিম আল দীন স্মরণে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, 'বাঙালির নব নাট্যনন্দন ভাবনার উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এবং ঢাকা থিয়েটারের স্বপ্নদ্রষ্টা সেলিম আল দীন। বাঙালিদের জাতীয় নাট্য আঙ্গিক নির্মাণের কাজ এবং নৃ-গোষ্ঠী শিল্পরীতিসমূহ অনুধাবনের ও ব্যবহারের কাজ সেলিম আল দীন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় সম্পন্ন করেছেন। অকালপ্রয়াত এই শিল্পপ্রতিভা আমরণ শিল্প ও মানব কল্যাণে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন।’ 

তিনি আরো বলেন,  ‘রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা নাটকের বিষয়, ভাষা ও আঙ্গিকে সেলিম আল দীন সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে আবির্ভাবলগ্নেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলা নাটকের পরিচিত ও গতানুগতিক পথে হাঁটবেন না তিনি। তাই সূচনার সেলিম থেকে পরিণত সেলিম অনেক পরিবর্তিত, দশকে দশকে তিনি আবিস্কার করেছেন নাটকের নতুন নতুন পথ, কাঠামো ও চরিত্রসকল।' 

পিডিএসও/তাজ