ফারহানা খানমের কবিতা

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:০৫

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক

সম্পর্ক 

স্পষ্ট তিক্ততা ছিল ওই গাম্ভীর্যে তাই প্রশ্ন ওঠে
সম্পর্কের অনিবার্যতা নিয়ে...
নুড়ির সাথে ধুলোর সম্পর্ক জন্মান্তরের
তবে কি ধূলিই বেশি আপন মৃত্তিকার চেয়ে?
এর সদুত্তর মেলেনি কখনো!
তবুও উত্তর ছিল নবীন ঘাসের ডগায়
আর দুর্বার গোপন মূলে,
সম্পর্ক; সেতো রোঁয়ার মতন যেমন আঁকড়ে থাকে
ফুলের বিম্বিত কেশর।
পরিণতি! প্রতি পাপড়িতে পাপড়িতে ছুঁঁয়ে
থাকা ভোরের আলো।
অথচ অশুত্থের পাতার আড়ালে বন্দি আলো
ছায়া হয়ে কাঁদে দিনভর।

 

তবুও ওরা আছে

সকালের শিশিরের সাথে
কিছু মৃত জোনাক পড়ে থাকে
ওদের নিথর দৃষ্টিতে অমোচনীয় কালিতে
গ্রন্থিত মধ্যরাতের অলিখিত পাণ্ডুলিপি, অথচ
নিয়তি অমোঘ, তবুও ওরা আছে
শিরোনামহীন সংকলনের মতো
শিল্পীর ইজেলে আর,
অপূর্ব কোনো কবির কবিতায়।



এক টুকরো আঁধার কোথাও না কোথাও সবসময় লুকিয়ে রয়

ছায়া ফেলে চলে গেল দিন
মনে হলো আশ্রয়ের জন্য আহারের খোঁজে
কুয়াশার কাছে করেছো গোপন কোনো ঋণ।
তোমারতো সবই ছিল। তবু রাতমুখ করে কেন গেলে?
সুসজ্জিত তৈলচিত্র আঁকতে পারোনি বলে
নদী কথা বলেনি অথবা আকাশ করেনি আদর।
এমন আমাদেরও হয়
একটুকরো আঁধার কোথাও না কোথাও সবসময় লুকিয়ে রয়।

মনের শরীর 

হেঁটেছি অনেকটা! বিন্দু বিন্দু ঘামে তেষ্টা
ঘামটুকু মুছে বসি কিছুক্ষণ
অতঃপর চায়ের কাপে আলতো চুমুকে
তুমি অনুযোগ করো
শরীরজুড়ে এতটা অযত্নের ছাপ!
আমি নির্বাক
ঠিক তখন এক ঝলক রোদ
গা এলিয়ে একমনে গল্প শোনে আমাদের
পরিযায়ী পাখির পালকে ছায়াবৃত্তের তিলক আঁকে মেঘ
আর দুপুর বিনুনির ভাঁজে
ঠিকরে ওঠে নির্জনতার ওম।
হ্যাঁ শরীর সামনে দাঁড়ায়
বাধ্য-অবাধ্য বহু আবেগেরে দারুচিনি ভেঙে
মনের একটা শরীর দাবি করে অনেকে
আমি করি না
যদি মনের শরীর থাকতো
আত্মহত্যাও পেত না পালাবার পথ।

 

অসমাপ্ত

পেইন্টিংটার একাংশে পাতাহীন বৃক্ষ আর
ধূসর হ্রদে রোদের খেলা
ঝকঝকে নীলাকাশে শরতের তুলোট মেঘ
বাকি ক্যানভাসে অদ্ভুত সাদা আঁচর
বোঝা যাচ্ছে অসমাপ্ত চিত্র;
হয়তোবা ইচ্ছে করেই চিত্রকর শেষ করেননি,
পথের শেষে না পৌঁছুলে যে, উপসংহার টানা যায় না
তা তিনি ভালই জানেন।
ছবিটা স্বপ্ন আনে যে কারো চোখেই
জন্ম দেয় হাজারো রুপকথা
আমিও অলস দুপুরে ইচ্ছেসুখে গল্প সাজাই
মনে মনে...
অনেকবার তুলে নিয়েছি রঙ তুলি
তবুও ছবিটা শেষ করা হয়নি...
কখনো মনে হয়েছে আপাতত থাক ওটা
কিংবদন্তি হয়েই
কখনো ভেবেছি আমিত সেই চিত্রকর নই,
আমারো জানা নেই হৃদের ওপারে কি আছে; কিই বা আঁকার ছিল
সাদা বরফের বুকে কিংবা বৃক্ষের পাশে?।

পিডিএসও/হেলাল