ভাবিনি লেখালেখি করবো : সমরেশ মজুমদার

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক পশ্চিমবঙ্গের সমরেশ মজুমদার। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক গত শনিবার বাংলাদেশের পাঠকদের মুখোমুখি হলেন। শোনালেন তার সৃষ্টিকর্ম ও জীবনের কথা।

সমরেশ মজুমদারকে নিয়ে ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক আলাপচারিতার আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘর। গত শনিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অষ্টম তলায় বাতিঘর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ আলাপচারিতা।

আলাপচারিতায় তিনি শোনালেন তার লেখালেখির শুরুর সময় ও মঞ্চনাটকের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা। মিলনায়তন উপচে পড়া  ভক্ত ও পাঠকের ভিড়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘এখানে এসে, এত মানুষের মুখোমুখি বসে যেন নতুন এক জীবন খুঁজে পেলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি যে নাটকের দলটি করতাম সেখানকার একটি চিত্রনাট্য রচনার জন্য প্রথম গল্প লিখি।

ওই নাটকটির নাম ছিল “অন্তরাত্মা”। মঞ্চদলটি গল্পটি নিয়ে নাটক না করায় সেটি “দেশ” পত্রিকায় পাঠাই। প্রথমে অবশ্য ছাপা হয়নি। এরপর আমার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক বিমল করকে ফোন করে তাগাদা দেওয়ার পর গল্পটা ছাপা হয়। সেখান থেকে ১৫ টাকা পাই। বন্ধুদের নিয়ে সেই টাকাটা উড়িয়ে দিই। খাওয়ার লোভে বন্ধুরা আবারও লিখতে বলেন।

স্মৃতিচারণা করে সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘আমি কোনো সময় ভাবিনি লেখালেখি করব। রবীন্দ্রনাথের গল্প পাঠ্যপুস্তকে যা আছে এর বাইরে কিছুই পড়তাম না। একদিন আমার এক স্যার  আমাকে রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ পড়তে দেন। আমিও প্রথমবারের মতো এই উপন্যাস পড়ি।”

আমার প্রথম উপন্যাস “দৌড়”ও দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়। খাওয়া ও খাওয়ানোর লোভ থেকেই লেখালেখির জগতে আমার পদার্পণ।’ আলাপচারিতায় তার তিনটি উপন্যাস ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’ ও ‘কালপুরুষ’ প্রসঙ্গ বার বার ফিরে আসে। উপন্যাস তিনটি নিয়ে সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘এ তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটা জোর করে লেখা। বলা যেতে পারে বাধ্য হয়েই লিখেছি। “উত্তরাধিকার” প্রকাশের পর পাঠকদের আগ্রহে পরে দেশ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের নির্দেশে বাকি দুই পর্ব লেখা হয়।’

আড্ডায় উঠে আসে লেখকের ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলির কথাও। এ উপন্যাসটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে বারো বছরের একটি মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের আট দিন পর বিধবা হয়ে মেয়েটি বাবার বাড়ি ফিরে আসে। এখান থেকে দীপাবলি চরিত্রটি তৈরি হয়।’

আত্মজীবনী প্রসঙ্গে এক পাঠক জানতে চাইলে জনপ্রিয় এই লেখক বলেন, ‘আত্মজীবনী লিখলে ঘরে ও বাইরে শত্রু তৈরি হবে। অতএব আমাকে দিয়ে এ কুকার্য সম্ভব হবে না।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাঠকদের স্বাগত জানান বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

বাতিঘরের পরিচালক দীপঙ্কর দাশ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রায় লেখকদের নিয়ে আয়োজন করি। এখন পর্যন্ত বাতিঘরে সৈয়দ শামসুল হক, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ অনেক লেখক এসেছেন। চট্টগ্রামের বাতিঘরে সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। বছর খানেক আগে তিনি সেখানে এসেছিলেন। সমরেশ মজুমদার বাংলাদেশকে অনেক পছন্দ করেন। আগে বছরে দুই একবার বাংলাদেশে আসতেন। এবারও তিনি আপনাদের ভালোবাসার টানে এখানে এসেছেন।’

আগামী ৭ ডিসেম্বর বাতিঘর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন সমরেশ মজুমদার।

পিডিএসও/তাজ