এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১৪

নড়াইল প্রতিনিধি

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—সকালে সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে কোরআনখানি, শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মাজার জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী। ১৯৮২ সালে একুশে পদকে এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে তিনি ভূষিত হন।

১৯৪৭ সালে ভারতের সিমলায় এস এম সুলতানের প্রথম এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচিতে চিত্রপ্রদর্শনী হয়। ১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। ১৯৫১ সালে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৫ সালে সবার অলক্ষে পাকিস্তানের করাচি থেকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং মাটির টানে জন্মস্থান নড়াইলে ফিরে অসেন।

এই শিল্পী নড়াইলের পুরুলিয়ায় ১৯৫৫-৫৬ সালে নন্দন কানন ফাইন আর্ট এন্ড স্কুল, ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে যশোর এম এম কলেজের একটি পুরনো হোস্টেলে একাডেমি অব ফাইন আর্ট স্কুল, ১৯৭৮ সালের দিকে জন্মস্থান নড়াইলের মাছিমদিয়ায় ফাইন আর্ট স্কুল এবং ১৯৮৭ সালে নড়াইলের কুরিগ্রামে ‘শিশুস্বর্গ’ নামে শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তিনি শিশুদের নিয়ে চিত্রা নদীতে ঘুরে ছবি আঁকানো শেখাতেন। ১৯৯৩ সালের ১০ আগস্ট ‘লাল বাউল সম্প্রদায়’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। ২০০৩ সালে শহরের কুড়িগ্রামে সরকার শিল্পীর নামে সুলতান কমপ্লেক্স গড়ে তোলে তার ভক্তরা।

চিত্রকলায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এদিকে, ২০০১ সাল থেকে নড়াইল জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে ‘সুলতান পদক’ প্রদান শুরু হয়েছে। প্রতি বছর সুলতান মেলায় এ পদক বিতরণ করা হয়। এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরতলীর মাছিমদিয়ায় রাজমিন্ত্রী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। এস এম সুলতান ছিলেন চিরকুমার, আত্মপ্রচার বিমুখ এবং সংসারবিবাগী। শিল্পী সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন।

পিডিএসও/হেলাল