অগ্নিবীণার গোলটেবিলে অভিমত

‘নজরুলের নামে আন্তর্জাতিক পদক প্রবর্তন করতে হবে’

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ১১:১৮ | আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১২:০৩

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

অগ্নিবীণা আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা—‘কবি নজরুলের নামে আন্তর্জাতিক পদক প্রবর্তন করতে হবে; বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পক্ষের সংগ্রামীদের দেওয়া হবে এ পদক।’ ১৯ মে শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে গোলটেবিল অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতিতে গৃহিত হয়। অনুষ্ঠানে নজরুলের সাম্যবাদী ও বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ ও এইচ এম সিরাজ। 

নজরুলচর্চা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এইচ এম সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক এবং প্রধান আলোচক ছিলেন নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তাসমিন রানা, সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জাকীর হোসেন, কবি ও ছড়াশিল্পী আসলাম সানী, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি মহসিন হোসাইন, ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের এডিশনাল এসপি বেলায়েত হোসেন, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, নারায়নগঞ্জের কবি নজরুল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল্লাহ মাস্টার ও নজরুল আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি নাসিম আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে কবি নজরুলের ‘সূফীবাদ’ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘটনা বর্ণনা করেন  কলামিস্ট ও গবেষক বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। এ গোলটেবিল অনুষ্ঠানে ৫৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ‘জাতীয় কবির ভাব-মর্যাদা সুরক্ষা’ বিষয়ে স্ব স্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। 

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে এইচ এম সিরাজ ৭ দফা দাবিনামা উত্থাপন করলে উপস্থিত সকলে সমর্থন দেন। দাবিগুলো হচ্ছে—জাতীয় সংসদে জাতীয় কবি বিল পাশ করতে হবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবি পদক প্রবর্তন করতে হবে, দেশের প্রত্যেক জেলায় ম্যুরাল নির্মাণসহ নজরুল চত্বর প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নজরুলের সৃষ্টিসমগ্র বিভিন্ন ভাষার অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বময় করতে হবে, দেশের সকল বিদ্যাপীঠে নজরুলপাঠ বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ১১ থেকে ১৩ ভাদ্র তিন দিনব্যাপি মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে নজরুল চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আর, ২৪ মে মোতাবেক ‘১০ জ্যৈষ্ঠ’ দিনটিকে জাতীয় কবি দিবস ঘোষণা করতে হবে; যেহেতু ১৯৭২ সালের এই দিনে কবি নজরুলকে ভারতের কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 

পরে মূল আলোচনাপর্বে রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রস্তাব করেন, ‘নজরুলের নামে আন্তর্জাতিক পদক প্রবর্তনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে নিজেকে মহিমান্নিত রূপে তুলে ধরতে পারে এবং তাতে নজরুল চেতনা ব্যাপক প্রসার ঘটবে।’ জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এ ব্যাপারে সহমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজ থেকে ৩ বছর আগে অগ্নিবীণার এক অনুষ্ঠানে আমি আন্তর্জাতিক নজরুল পদকের কথা তুলেছিলাম। আজ বন্ধুবর স্টালিন সে কথা বলছেন। আমার প্রস্তাব থাকবে, ওই পদকের সঙ্গে ১ কোটি টাকা অর্থমূল্য প্রদান করা হবে; সেই টাকা কবি নজরুলের জন্য বাংলাদেশের জনগণ দিতে কার্পণ্য করবে না বলে আমার বিশ্বাস।’

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক অগ্নিবীণা সংগঠনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘নজরুল ছিলেন শ্রেণি-সচেতন কবি। নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে তার মতো প্রতিবাদ পৃথিবীর আর কোনো কবি-সাহিত্যিক করতে পারেননি। তিনি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে নিজের শির উঁচু করার কথা দৃঢ়ভাবে বলেছেন; যার অর্থ ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতা।’ সবশেষে ইফতার মাহফিলের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অগ্নিবীণা ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি ফখরুল হাসান।

পিডিএসও/মীর হেলাল