বিশ্ব পুতুলনাট্য দিবস

সম্মাননা পেলেন ‍মুস্তাফা মনোয়ার ও মোশারেফ হোসেন দর্জি

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৮, ১৬:৩৯ | আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ১৬:৫৭

অনলাইন ডেস্ক

একটি কৃত্রিম ফ্রেমের মাঝখান থেকে বের হলো কয়েকটি মুখ। বিচিত্র মুখশ্রীর এসব পুতুল কখনও শিশুর কণ্ঠে, কখনও প্রাপ্তবয়স্কর কণ্ঠে হাস্যরসের মধ্য দিয়ে নানা কাহিনী বর্ণনা করে যাচ্ছে। ওই দিকে মঞ্চের সামনে বসে থাকা শিশুর দল মনোযোগ দিয়ে পুতুলের এসব কাণ্ডকীর্তি দেখছে। ক্ষণে ক্ষণেই ফেটে পড়ছে অট্টহাসিতে। বড়রাও পুতুলের কাণ্ডকীর্তি দেখে যারপরনাই খুশি।

বিশ্ব পুতুলনাট্য দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে এ রকম আনন্দমুখর পরিবেশ দেখা গেল পুতুল নাট্য প্রদর্শনী ঘিরে।দুই পর্বে বিভক্ত পুতুলনাট্য দিবসের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। প্রথম পর্বে জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে পুতুলনাট্য পরিবেশন করে বাগেরহাটের দি আজাদ পুতুলনাট্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র।

সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটার প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, পুতুল মানুষের চিরকালীন সঙ্গী। এমন জাতি-গোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণের মানুষ পাওয়া দুস্কর যারা শিশুর হাতে পুতুল তুলে দেন না তাদের কান্না থামিয়ে মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। মানব সভ্যতার সমান বয়সী এ পুতুল সুতা কিংবা কাঠির সাহায্যে নড়াচড়া করিয়ে বিনোদন ও লোকশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মানুষ ব্যবহার করে আসছে, যার ইতিহাস-ঐতিহ্যও হাজার বছরের।

বিশ্ব পুতুলনাট্য দিবস উপলক্ষে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং গুণী পুতুলনাট্যশিল্পীর সম্মাননা পান বাগেরহাটের মোশারেফ হোসেন দর্জি।
আলোচনায় অংশ নেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রশীদ হারুন। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক বদরুল আনম ভূঁইয়া।

পিডিএসও/তাজ