প্রাণের বইমেলা

বিক্রিতে রেকর্ড গড়ে শেষ হলো প্রাণের মেলা

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৮, ১৩:১০

পাঠান সোহাগ

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসে বাংলা একাডেমি জুড়ে যে প্রাণের মেলার জোয়ার বইছিল, তা শেষ হলো গতকাল বুধবার। বিকেল ৩টায় মেলার দ্বার উন্মুক্ত করা হলে প্রাঙ্গণ কানায় কানায় ভরে উঠে। শেষ দিন বইপ্রেমীদের জোয়ারে ভাসছিল বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। স্টলে স্টলে ভিড়। দম ফেলার সময় ছিল না বিক্রেতাদের। বাড়ি ফেরায় সাবার হাতে ছিল বই আর বই।

এবারের মেলায় বই বিক্রি হয়েছে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি। গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় বিক্রি হয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, বই বিক্রি তত বাড়ছে। বিশেষ কোনো লেখক নয়, বিষয়ই হয়ে উঠছে ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে বইয়ের জগতে বিষয়বৈচিত্র্য আরো বাড়বে, নতুন সময়ের পাঠকের নতুন প্রত্যাশা গুরুত্ব পাবে। এমন আশাবাদের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভাঙল গত এক মাসের প্রাণের মেলা, লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের মিলনমেলা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল তা এবারের মেলাতেও প্রমাণিত হয়েছে। এ বছরেরর ভুলত্রুটিগুলো হয়তো আগামী মেলায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট এক কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায় যে, এবার বইমেলায় মোট ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

স্বাগত ভাষণ প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, এবারের মেলা সার্বিক অর্থেই সর্বাঙ্গসুন্দর একটি মেলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ যে বেগবান হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক কম প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বই আরো প্রকাশিত হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এবারের গ্রন্থমেলায় শিশু ও অভিভাবকসহ প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

নতুন বই : এবার মেলায় চার হাজার ৫৯১টি নতুন বই এসেছে। গত বছর মেলায় তিন হাজার ৬৪৬টি বই এসেছিল। নতুন বইয়ের দিক থেকে অতিতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। প্রতিবছর কবিতার বই বেশি প্রকাশিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে এক হাজার ৪৭২টি। গত বছর কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল এক হাজার ১১২টি।

এ ছাড়া এ বছর গল্পগ্রন্থ ৭০১টি, উপন্যাস ৬৪৩টি, প্রবন্ধ ২৫৭টি, গবেষণা ১২২টি, ছড়াগ্রন্থ ১১২টি, শিশুতোষ ১২৫টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ৯১টি, জীবনীগ্রন্থ ১০৭টি, ভ্রমণ ৯১টি, ইতিহাসবিষয়ক ১১০টি, বিজ্ঞানবিষয়ক ৭৬টি, সায়েন্স ফিকশন ও গোয়েন্দা গ্রন্থ ৬৫টি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্রন্থ ৩৩টি, অনুবাদ গ্রন্থ ৪৮টি, নাটক ২৩টি, রাজনীতিবিষয়ক ২২টি, রম্য-ধাঁধা ২১টি, ধর্মীয় গ্রন্থ ২৬টি, রচনাবলি ১৫টি ও অভিধান সাতটি। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে বই রয়েছে ৪২৪টি। শেষ দিনেও ২৫৫টি নতুন বই এসেছে।

পিডিএসও/তাজ