প্রাণের বইমেলা

বইমেলার পর্দা নামছে আজ

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:০৬ | আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:২২

পাঠান সোহাগ
ছবি : ফোকাস বাংলা

অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা নামতে যাচ্ছে আজ। শেষদিন হিসেবে পুরো মেলা প্রাঙ্গন আজ থাকবে জমজমাট। বিদায় বেলায় জমে ওঠবে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা।

এদিকে মঙ্গলবার ছিল বৃষ্টিভেজা মাটিতে ছিমছাম পরিবেশ। বসন্তের চমৎকার আবহাওয়া। চত্বরের কোনো কোনো নিচু জায়গায় তখনো গতরাতের বৃষ্টির পানি জমে আছে। ভিড় ছিল, উচ্ছ্বাস ছিল। ক্রেতারা বই কিনেছেন অন্যান্য দিনের মতই, তবু সবখানেই ছিল বিদায়ের সুর। দর্শনার্থী থেকে স্টলের দোকানি, সবারই চোখেমুখে ছিল বিদায়ের বার্তা। গতকাল মঙ্গলবার অমর একুশের গ্রন্থমেলায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিকেল ৩টায় গ্রন্থমেলার দ্বার খুলে দেওয়া হয়। তখনো পাঠক, দর্শনার্থী, ক্রেতার তেমন সমাগম দেখা যায়নি। বিকেল ৪টার পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় বেচাকেনা। আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন। এ দিনেই পর্দা নামবে মেলার। শেষ দিনও মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টা থেকে, চলবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, বিদায় বেলায় জমে ওঠেছে বেচাকেনা। সন্ধ্যায় প্রতিটি স্টলে বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল। সবার হাতে ব্যাগ ভর্তি বই। শেষ মুহ‚র্তে বইয়ের বেচা-বিক্রি নিয়ে ব্যাপক খুশি প্রকাশকরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চের পাশে কথা হয় কবিরের সঙ্গে। এসেছেন টঙ্গি থেকে। তিনি বলেন, দেখতে দেখতে মেলা শেষ হয়ে গেল। আবারও প্রাণের মেলার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মামুন-অর-রশীদ বলেন, শেষের দিনগুলোতে যেমন পাঠক-ক্রেতার সমাগম ছিল, প্রথমদিকে সেরকম ছিল না। শেষ দিকেই বিক্রি বেড়েছে। সার্বিকভাবে ভালো বিক্রি হয়েছে। এবারের বইমেলায় লেখক সাদত আল মাহমুদের তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

‘রাজাকার কন্যা’, ‘প্রসব বেদনা’ ও ‘রমনীদ্বয়’ বই তিনটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। সোহরাওয়াদী উদ্যানের বিভিন্ন স্টলে বইগুলো পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৭ দিনে মেলায় মোট চার হাজার ৩৩৩টি নতুন বই এসেছে।

মঙ্গলবার মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ৪০টি, উপন্যাস ২৫টি, প্রবন্ধ ১৬টি, কবিতা ৬০টি, গবেষণা আটটি, ছড়া ছয়টি, শিশুসাহিত্য চারটি, জীবনী পাঁচটি, মুক্তিযুদ্ধের চারটি, নাটক একটি, বিজ্ঞান পাঁচটি, ইতিহাস তিনটি, রম্য-ধাঁধা একটি, ধর্মীয় চারটি, অনুবাদ দুটি, সায়েন্স ফিকশন আটটি এবং অন্যান্য নয়টি বইসহ মোট ২০২টি নতুন বই রয়েছে।

পিডিএসও/তাজ