আনন্দ উল্লাসেই শেষ হলো শিশু প্রহর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:২৮

পাঠান সোহাগ

আনন্দ উল্লাসে শেষ হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ শিশু প্রহর। শনিবার বেলা ১১টায় মেলার দ্বার খোলার সঙ্গে সঙ্গে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ। অভিভাবকদের হাত ধরে মেলায় আসে শিশুরা। পছন্দের বই কিনে। সিসিমপুরের টুকটুকি, হালুম, শিপু, ইকরিদের নিয়ে মেতে উঠে। বেলা ১টা পর্যন্ত তাদের কোলাহলে মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। ছিল ছোটাছুটি, হৈ-হুল্লোড়।

পছন্দের বই কেনার জন্য আবদার। অভিভাবকরাও বাচ্চাদের পছন্দকে অগ্রাধিকার দিয়ে বই কিনে দেন। শিশুদের এমন কোলাহলে জমে উঠে মেলা। বিক্রিও ভালো হয় বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। গতকাল মেলার ২৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৮২টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতার বই (৫৪ টি)। আর গল্পের বই এসেছে ৩৬টি।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় ছিল শিশুপ্রহর। সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ‘দেশ বিভাগের সত্তর বছর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমানুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

শনিবার মেলার শেষ শিশু প্রহরে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে মেলা দর্শনার্থী, পাঠক, ক্রেতায় পরিপূর্ণ। মেলায় কথা হয় ইস্কাটনের বাসিন্দা গোলাম মোরশেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বছর আর আসবে না শিশু প্রহর। তাই ছেলে মেয়ে ও ভাগ্নিদের নিয়ে এসেছি। শিশু প্রহরে মেলায় ওরা বেশ আনন্দ করেছে।’

কাটাবনের তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ণমাল ও কবিতার বই ছোট ছেলের জন্য কিনেছি। উদ্দেশ্য ছেলেকে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়।’

শিশুরা চত্বর ঘুরে ঘুরে বই দেখছে আর কিনছে। তারা হেসে-খেলে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ বাবা-মায়ের কাছে নতুন নতুন বইয়ের বায়না ধরছে। আজিমপুরের কবির হোসেন তার মেয়ে শ্রাবণীকে কিনে দেন বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট গল্পের বই। শ্রাবণী বলে, ‘বই মেলায় বাবার সঙ্গে এসেছে। সৌরজগতের নানা বিষয় জানতে বাবা এই বই কিনে দিয়েছেন।’

আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মামুন অর রশীদ বলেন, শেষ শিশু প্রহরে শিশুদের আনাগোনা বেশি। বইয়ের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষের কয়েক দিন ভালো বিক্রি হবে এমটাই আশা করেন তিনি।

এদিকে, মেলায় গত ২৪ দিনে মোট তিন হাজার ৯১০টি বই এসেছে।

অন্যদিকে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার। গ্রন্থের গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেল রচিত ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমান রচিত ‘বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার।  গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আজকের আয়োজন : রোববার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিন। আজ মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে ভাষা-সংগ্রামী নাদিরা বেগম ও ভাষা-সংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রামেন্দু মজুমদার ও রফিউর রাব্বি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পিডিএসও/তাজ