স্টল নম্বর বিরানব্বই

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:১৩ | আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:৪০

আমিন আশরাফ

শাহীন পাবলো নেরুদার কবিতার বই ও কাহলিল জিবরানের একটা ভালো অনুবাদ কিনে স্টল থেকে চলে আসে। হঠাৎ মনে হলো, আরে! স্টলের নামটা দেখা হয়নি। হাবিবের জন্য এ দুটোই আবার কেনা লাগতে পারে। হাবিব তার রুমমেট। বাড়ি ফরিদপুর। চিকনা ও কুচকুচে কালো ছেলেটা শাহীনের রুমমেট। কাপড়ের ব্যবসা করে। চেহারা কুচকুচে কালো হলেও তার ভেতরটা অসম্ভব সুন্দর। একদিন হাবিবের দোকান থেকে শার্টের পিস কিনতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। মোহাম্মদপুরের বসিলায় প্রায়ই হাবিবের সঙ্গে দেখা হয় শাহীনের। একদিন হাবিব চা খাওয়াতে চাইলে খুশিমনে শরীক হয়। আলাপে দুজন দুজনের কথা জানা হয়।

হাবিব খুব দয়াবান মানুষ। শাহীনের চাকরিটা সুবিধের না হওয়ার কথা জেনে চা খাওয়ার এক ফাঁকে হাবিব শাহীনকে বলে, শুনুন! আমার চাচাতো ভাই একটা অনলাইন চালান—জলছবি টুয়েন্টিফোর ডটকম। তিনি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন। আমার জানামতে এখনো পছন্দমাফিক কাউকে পাননি। আপনি চাইলে রাকিব ভাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পরোপকারী হাবিব তখনই ওর ভাইকে ফোন করে শাহীনের কথা বলে দেয়। শাহীন নম্বরটা ডায়ালে রেখে কাল যোগাযোগ করার কথা বলে চলে আসে।

কয়েকদিন পর আচমকা হাবিবের বহুরঙের দোকানে হাজির হয় শাহীন। মুখে কৃতজ্ঞতার প্রলেপ মাখানো। হাবিবই আগে জিজ্ঞেস করলো—

-চাকরি কেমন চলছে?

-আলহামদুলিল্লাহ্! আপনি যে আমার কত উপকার করলেন, তা বলে বুঝানোর মতো না। আপনার উপকার কখনো ভুলব না।

-আচ্ছা ভাই! আজ আমি আপনাকে কিছু একটা খাওয়াব। কী খাবেন, বলেন।

-না, আজ না। মাসের প্রথম মাইনে পেয়ে তবেই খাওয়াবেন।

শাহীন আর জোর করার সাহস পায় না। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন নারী ক্রেতা এসে পড়ায় হাবিব ক্লায়েন্টের দিকে নজর দেয়। চলি, আরেকদিন কথা হবে বলে চলে আসে শাহীন। একদিন তিন রাস্তার মোড়ে হাবিবকে রিকশায় কোথাও যেতে দেখে ডাক দেয়। রিকশা থেকে নেমে পড়ে হাবিব।

-আরে সাংবাদিক সাহেব! কোত্থেকে?

-এই তো সবে অফিস থেকে ফিরলাম।

-ভালো আছেন?

-জী ভাই! আলহামদুলিল্লাহ্।

-এদিকে কোথায় যাচ্ছেন?

-আরে ভাই বলবেন না! গতরাতে বাসার মালিক এসে বলে, বাইরে থেকে তার মেয়ে-জামাই ও নাতি আসছেন। আগামী মাসের এক তারিখে বাসা ছেড়ে দিতে হবে। ভাগ্যের ফেরে পড়ে বাসা খুঁজতে বেরিয়েছি।

-ভাই, আপনি কি একা থাকেন?

-একাই তো ভাই। বিয়েটিয়ে করিনি। আমাকে আবার কে মেয়ে দেবে বলুন?

-ভাই আপনার মতো মানুষের কাছে মেয়ে দেবে না তো কার কাছে দেবে? চেহারায় কী আসে যায়? ভেতরটাই তো আসল।

-আপনি কবি মানুষ! আপনি যা বলেন ভাই!

-কিছু না মনে করলে আপাতত আমার বাসায় উঠতে পারেন। রুমমেটটা আগামী মাস থেকে আর থাকছে না। দুদিন পর চলে যাবে। চাইলে তখনই উঠতে পারেন। পরে না হয় ভালো ফ্ল্যাট পেলে চলে আসবেন।


মেয়েটার চেহারা তেমন একটা সুন্দর না হলেও অদ্ভুত মায়াময় মনে হচ্ছে। কথা বলার সুযোগ পেয়ে মেয়েটা চঞ্চলা হরিণীর মতো একের পর এক প্রশ্ন করে আমার সবকিছু জেনে নিলো। প্রকাশকের কাজটা ভালো হয়নি বলে লোকটাকে বদ বলে গালি দেয়। কথা বলার মাঝখানে পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে পড়তে শুরু করে


ভয় হয় আমার সঙ্গে আপনার মানাবে কি না! শাহীনের আলাপের ঢঙে হাবিব হো-হো করে হেসে উঠল। এরপর থেকে প্রায় দুবছর চলল হাবিব শাহীনের রুমমেট জীবন। শাহীনের বই কেনার অভ্যাস দেখে আস্তে আস্তে হাবিবেরও বই পড়ার ভালো একটা অভ্যাস হয়ে যায়। সাহিত্য কাগজে শাহীনের কোনো কবিতা পেলে হাবিব পড়ে উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করে। বলে, একদিন তুমি কবিতায় নোবেল প্রাইজ পাবে। শুনে আচ্ছামতো হাসে শাহীন। বলে, আপনি ভাই ভালো কৌতুক জানেন।

ইদানিং কোনো বই পেলে দুটো করে কেনে শাহীন। হাবিব বলে দিয়েছে, কোনো বই কিনলে যেন তার জন্য এক কপি কিনে নেয়। হাবিবের এ বিশ্বাস ভালো রকমের হয়ে গেছে—শাহীন বই কিনলে যা তা কেনে না। শাহীন আজও চেয়েছিল দুটো করে কিনবে, কিন্তু সেলস্বয় বললো একটা কপিই আছে। চাইলে কাল নিতে পারবেন। শাহীন স্টলের নম্বরটা দেখার জন্য বইমেলায় ঢুকে স্টলের নেমপ্লেটে তাকিয়ে দেখে স্টলের নাম অপরাজিতা। নম্বর বিরানব্বই। শাহীন মুখে আওড়ালো বিরানব্বই!

রাস্তার বিশাল জ্যাম কেটেকুটে শাহীন বাসায় এসে পরিচ্ছন্ন হয়ে বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল। এটা তার পুরনো অভ্যাস। হঠাৎ মনে পড়ে গেল স্টলের নম্বর বিরানব্বই। এ সময় হাসিমুখে ঘরে ঢুকল হাবিব। শাহীনের হাতে বই দেখে বলল—

-আরেওয়াহ! নতুন বই! আমারগুলো কই?

-দুটো এনেছি। স্টলে এই দুটো কপিই ছিল কেবল। তোমার দুটো কাল আনব।

-আচ্ছা! এগুলো আমার। তোমারগুলো কাল কিনে নিও।

হাবিব ফ্রেশ হয়ে শাহীনকে আনমনা দেখে তার কপালে ভাঁজ পড়ে।

-কবি সাহেব, কী হলো? মন খারাপ কেন?

শাহীন কোনো উত্তর দিচ্ছে না দেখে সে হাবিবের মুখামুখি বসে বলে—

-কী হয়েছে? বলবেন না।

-আমি কোনো কিছু লুকিয়েছি কখনো?

- তা-না।

-কিন্তু আজ মনে হয় লুকোচ্ছেন।

-আজ একটি ঘটনা ঘটেছে ভাই!

-কী ঘটনা? হাবিব চোখেমুখে এক প্রকার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।

আজ বই দুটা কেনার সময় দেখি স্টলের নাম বিরানব্বই।

-বিরানব্বই তো কী হয়েছে।

-শুনবেন! সে এক লম্বা ঘটনা।

-ঘটনা লম্বা হোক, কোনো সমস্যা নেই।

পাঁচ বছর আগে আমার প্রথম কবিতার বই বের হয়। ঢাকায় এক প্রকাশককে পাণ্ডুলিপি দেখালে লোকটা না দেখেই বলে আজকাল কবিতার বই কেউ খায়? তারপর আরেক প্রকাশকের কাছে যাই। বই করতে রাজি হয় না। তারপর প্রকাশকের দুয়ারে নক করি। এভাবে ঘোরাঘুরি করে তাদের থেকে যা ব্যবহার পেয়েছি, তাতে বই বের করব দূরের কথা লেখালেখির শখ মিটে যাওয়ার জোগাড়।

আমার এক সহপাঠি রফিকও কবিতা লিখত। একদিন তার সদ্য প্রকাশিত কবিতার বইটি আমাকে দিয়ে বলে দেখতো! বইটা কেমন হলো? আমি নতুন বইয়ের গন্ধ উপভোগ করার চেষ্টা করি। বলি, তুই কত সহজে বইটা করে ফেলেছিস। অথচ আমি কত ঘোরাঘুরি করলাম, পারিনি। আরে! সহজে হয়নি! এত্তগুলো টাকা লেগেছে। তুই টাকা জোগাড় করতে পারলে তোরটাও বের হবে। রফিকের কথায় নিজেকে রিক্ত পথিক মনে হয়। যার দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে ওর বাবার সকাল-বিকাল ঘাম ঝরে, সে আবার টাকা জোগাড় করে বই বের করবে। এমন বিলাসি চিন্তা করাও মহাপাপ।

হঠাৎ মাথায় এলো এমনিতে তো টিউশনি করতে হয়। না করলে বাবা-মাকে কিছু দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কোচিংটা একটু খারাপ হবে হয়তো কয়েকটা টিউশনি বেশি করলে হয়তো মাস ছয়েকের ভেতর টাকাটা জমাতে পারব।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার আর বেশি দেরি নেই। রফিকের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে টাকাসহ প্রকাশকের হাতে পাণ্ডুলিপিটা তুলে দেই। বেচারা প্রকাশক পাণ্ডুলিপিটা হাতে না নিয়েই বললেন, টাকা এনেছেন? আমি কিছুটা অবাক হই পাণ্ডুলিপি না দেখে আগেই টাকা চাচ্ছে কেন? টাকাটা দিতেই তার মুখে হাসি। বললেন, ফেব্রুয়ারি এক তারিখ বইমেলার অরুণা স্টলে আপনার বইটা খুঁজে নেবেন। আমি খুশি প্রকাশ না করেই লোকটাকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসি।

ফেব্রুয়ারি এক তারিখ। বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে বইমেলায় ঢুকে অল্প খুঁজতেই অরুণা নামের স্টলটা পেয়ে যাই। কবিতার নাম বলতেই বিক্রেতা ছেলেটা বলে, ‘প্রচ্ছন্ন তুমি’ নামের কোনো বই এখনো আসেনি।

-প্রকাশক কোথায় আছেন?

-বাংলাবাজারের অফিসে।

-আসবেন কখন?

-তিনি এখন অনেক ব্যস্ত! বেশি দরকার পড়লে বাংলাবাজারের অফিসে গিয়ে দেখা করতে পারেন। পকেটের অবস্থা ভালো না হওয়ায় বাংলা একাডেমি থেকে হাঁটতে হাঁটতে তিন ঘণ্টা পর বাংলাবাজারে পৌঁছে যাই। অনেক অপেক্ষার পর প্রকাশক মহোদয় অফিসে এলেন। এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সালাম দিয়ে বইয়ের কথা বললাম। আমার কথা শুনে মনে হলো তিনি আকাশ থেকে পড়লেন। প্রকাশক বললেন, তিনি নাকি আমাকে চেনেন না। কোনোদিন দেখেননি। পাণ্ডুলিপি ও টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি আরো বলে দিলেন, বই পছন্দ হলে টাকা ছাড়াই প্রকাশ করি। আমি তাকে অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলি- ভাই, আমি গরিব মানুষ। বই না বের করেন, টাকাটা তো ফেরত দিন। এ সময় প্রকাশনীর দুজন লোক আমাকে অফিস থেকে বের করে দেয়।

-ইস! ওইসময় আপনার সঙ্গে আমার জানাশোনা হলে বই ছেপে দিতাম, বলল হাবিব।

-আপনি থাকলে আমার কোনো চিন্তাই থাকতো না।

-তারপর কী হলো?

পাণ্ডুলিপিটার আরেকটা কপি আমার হাতে ছিল। হাঁটতে হাঁটতে বাহাদুর শাহ পার্কের বেঞ্চে বসে নিজের ভাগ্যকে দোষ দিচ্ছিলাম।

এ সময় একটা ছেলে এসে বলল, কাবলি বুট নেবেন স্যার।

মাথা উঠিয়ে বললাম, দুই টাকার দাও।

কাবলি বুট খাচ্ছিলাম। তখন মধ্য দুপুর। পার্কে দু-তিন পাক চক্কর দেওয়ার মতো লোকজন নেই। হঠাৎ একটা মেয়েলি কণ্ঠ বেজে উঠল।

হ্যালো! দেখলাম শ্যামলা মতন একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে।

জ্বি, কিছু বলবেন ম্যাডাম!

আমি চাচাতো বোনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ও একটা দরকারি জিনিস কিনতে গেছে। এখানে আর কেউ নেই। অনেকক্ষণ ধরে দেখছি একা বসে আছেন। হাতে সম্ভবত কবিতার পাণ্ডুলিপি। গভীর ভাবনায় আছেন। ভাবলাম যেচে কথা বলি। কবি হলে তো ভালোই। কবি মানুষ আমি বেশ পছন্দ করি। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে উদাসী কবি।

মেয়েটার চেহারা তেমন একটা সুন্দর না হলেও অদ্ভুত মায়াময় মনে হচ্ছে। কথা বলার সুযোগ পেয়ে মেয়েটা চঞ্চলা হরিণীর মতো একের পর এক প্রশ্ন করে আমার সবকিছু জেনে নিলো। প্রকাশকের কাজটা ভালো হয়নি বলে লোকটাকে বদ বলে গালি দেয়। কথা বলার মাঝখানে পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে পড়তে শুরু করে। পার্কের কংক্রিটের বেঞ্চে কাঁধের ব্যাগ রেখে বসে। দু-একটা কবিতা পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে।

-আপনি তো দারুণ লেখেন! আমি তার প্রশংসায় তেমন আগ্রহবোধ করি না। ‘অসাধারণ হয়েছে, ভালো হয়েছে!’ এই টাইপের প্রশংসা আমার একেবারে না পছন্দ।

এ সময় মেয়েটার বোন চলে আসে। চাচাতো বোনের সঙ্গে আমায় পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে, ইনি একজন কবি। ভালো কবিতা লেখেন। বললাম, দু-একটা কবিতা পড়েই বড় কবি বানিয়ে দিলেন। আরে না, কবিতা দেখলেই বুঝা যায় আপনি বড় মাপের কবি।

মৃন্ময়ী পুরান ঢাকার প্যারিদাস রোডে বাবা-মার সঙ্গে থাকে। জগন্নাথে বাংলা বিভাগের ছাত্রী। ওর মামার রুপায়ন নামে একটা প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে। মৃন্ময়ীর সঙ্গে আমার পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। ও মামাকে বলে-কয়ে খুব কম সময়ের ভেতর আমার বইটি প্রকাশ করে। কবি পরিচয় দিয়ে ওদের বিশাল ফ্ল্যাটের এক রুমে কয়েক দিন থাকার ব্যবস্থাও করে। মৃন্ময়ীর বদান্যতায় আমার কষ্টগুলো আর কষ্ট থাকে না। কবিতার বইটা ব্যাপক প্রচার পায়। আমাকে ওরা ২০টি বই দেয়। এ সময় রূপায়নের বিরানব্বই নম্বর স্টলটা যেন আমার জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে। যে কয়দিন ঢাকায় ছিলাম। মুন্ময়ী ও চাচাতো বোন রূপাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি, ফুচকা খাওয়া ও বই কেনা। ‘প্রচ্ছন্ন তুমি’ বইয়ের পাঠককে অটোগ্রাফ দেওয়া সবই হয়।

১০ দিন পর আমার বাড়ি যাওয়ার সময় হলো। মৃন্ময়ী বলে, আর কয়েকদিন থাকেন না! ওর কথার ভেতরে একটা টান অনুভব করি। মনে হচ্ছে, দুজনের মাঝে একটা ভাব তৈরি হয়ে গেছে। বললাম, যেতে তো হবেই। জীবনে এই প্রথম বাড়ি ছাড়া থেকেছি তো। আবার ঢাকা এসে যেন তার সঙ্গে দেখা করি সে ওয়াদাটাও করতে হলো। সামনে পাবলিক ভার্সিটি ভর্তি হওয়ার ব্যাপারেও সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

এর মাঝে একটা বছর চলে যায়। জগন্নাথে চান্স পেলেও মৃন্ময়ীকে আর পাইনি। বাংলাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, রূপায়নের মালিক ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছেন। কই গেছেন? কেউ জানে না। প্যারিদাস রোডে অনেক খুঁজেও কোনো পাত্তা মেলেনি মৃন্ময়ীদের। এরপর কতবার বইমেলায় যাওয়া হয়েছে। বিরানব্বই নম্বর স্টলটা মনে রাখতে চাইলে কেন জানি ওটা বারবার আমার সামনে চলে আসে।

এ সময় হাবিব একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। শাহীনের মনে হলো হাবিবের ভেতরও এমন কোনো কষ্ট চেপে আছে।

লেখক : কবি ও গল্পকার
aminashraf90@gmail.com

পিডিএসও/হেলাল