প্রাণের বইমেলা

পাঠকের মনে হুমায়ূন

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩৬

পাঠান সোহাগ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এক সময় ছিলেন বইমেলার প্রাণ। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীর ব্যাগে থাকত হুমায়ূনের বই। প্রকাশকরাও জমিয়ে বিক্রি করত তার বই। গত ছয়টি বইমেলা চলছে হুমায়ূন ছাড়াই। তবুও প্রভাব মেলায় রয়ে গেছে। এখনো হুমায়ূনকে টের পাওয়া যায় মেলায় গেলে। বিভিন্ন স্টলে ও প্ল্যাকার্ডে তার ছবি টানানো আছে। স্টলগুলোতে হুমায়ূনের বই খুঁজতে দেখা গেছে। এখনো বিক্রির শীর্ষে অন্যতম হুমায়ূনের বই।

২০১২ সালের ১২ জুন তিনি পারি জমান না ফেরার দেশে। এই অর্ধযুগ মেলায় হুমায়ূনের পদচারণা নেই। কিন্তু আছেন পাঠকের মুখে ও মননে। অন্য প্রকাশ প্রকাশনীতে রয়েছে হুমায়ূনের ১২৫টি বই। এর মধ্যে রয়েছে দেয়াল, মধ্যাহ্ন অখন্ড, জোসনা জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া, বাদশা নামদার, লীলাবতী, কে কথা কয়, ৭০ দশকের নির্বাচিত পাঁচটি উপন্যাস, ৮০ দশকের পাঁচটি উপন্যাস, ৯০ দশকের পাঁচটি উপন্যাস, শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস, অদ্ভুত সব উপন্যাস প্রভৃতি।

সোমবার অন্য প্রকাশের স্টলের সামনে দেখা গেছে পাঠক দর্শনার্থীর ভিড়। তারা বই উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছিলেন হুমায়ূনের বই। তারা বলছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আছেন থাকবেন। তারা হিমু পরিবহনের সঙ্গে চিরকাল থাকবেন।’ মেলায় কথা হয় সবুজবাগের গৃহবধূ শারমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হিমু, মেঘের উপর বাড়ী, ম্যাজিক মুন্সীসহ হুমায়ূনের আরো পাঁচটি বই কিনেছি। তার সব বই পড়ার ইচ্ছে আছে।’ অন্য প্রকাশের বিক্রিয় কর্মী আমিরুর ইসলাম বলেন, ‘হিমুর সিরিজ ভালো চলছে। এছাড়া নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মিসির আলীর চশমা, শ্যামল ছায়া, উড়াল পঙ্খি, অচিনপুর মতো উপন্যাসগুলো চলছে।’

সোমবার গ্রন্থমেলার ১৯তম দিন ছিল। এদিনে মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ২২টি, উপন্যাস ২৪টি, প্রবন্ধ ১১টি, কবিতা ৫৩টি, ছড়া তিনটি, শিশুসাহিত্য তিনটি, জীবন দুটি, ভ্রমণ কাহিনী দুটি, মুক্তিযুদ্ধের তিনটি, বিজ্ঞান একটি, রম্য-ধাঁধা একটি, অনুবাদ তিনটি এবং অন্যান্য ১২টি বইসহ ১৪১টি নতুন বই রয়েছে।

আজকের আয়োজন : আজ মঙ্গলবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২০তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস : বহুত্ববাদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রনীতি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আকসাদুল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও মাহবুবুল হক। সভাপতিত্ব করবেন শামসুজ্জামান খান। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আগামীকাল পালিত হবে অমর একুশে।

পিডিএসও/তাজ