প্রাণের বইমেলা

আসছে তরুণ লেখকদের বই, মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৮ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:০৮

পাঠান সোহাগ

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তরুণ লেখকদের বই যে তুলনায় আসছে, সে তুলনায় জনপ্রিয়, পাঠকনন্দিত ও মানসম্পন্ন বইয়ের সংখ্যা খুব কম। মেলায় আসা তরুণ লেখকদের অধিকাংশ বইয়ের মান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন পাঠকমহল। তাদের অভিযোগ, অনেকে লেখক হিসেবে পরিচিতি পেতে গাঁটের টাকা খরচ করে বই বের করছেন।

বই বের করাটাই কৃতিত্ব বলে ভাবছেন, লেখার মান নিয়ে ভাবছেন না। ফলে ভালো বই বের হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবীন লেখকদের আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। যে বিষয়ে নিয়ে লিখবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। তবেই ভালো লেখা বের হতে পারে।

তরুণ লেখকের বই সম্পর্কে মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। এদের মধ্যে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী অনিক বলেন, আমি অনেক লেখকের বই পড়েছি। তাদের মধ্যে অনেকেই ভালো লিখেন। তবে অধিকাংশ লেখকের মান ভালো নয়। আবার অনেকের লেখা পড়ে বুঝতে অনেক কষ্ট হয়। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তরুণ লেখকের বই বেশি আসছে। জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত বইয়ের সংখ্যা তুলনামুলক কম। হূমায়ুন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক, জীবনানন্দের মতো লেখক বের হয়ে আসুক এমন প্রত্যাশা তার।

আবদুর রশিদ নামের আরেকজন বলেন, কবিতা লিখলেই কবি হওয়া যায় না। এবারের মেলায় কিছু কবিতার বই দেখছি ও পড়েছি। মাঝে মধ্যেই কবিতার দুটি লাইনের মধ্যে মিল খুঁজে পাই না। আজিমপুরের শহিদুল ইসলাম বলেন, এমন লেখকের বই ছাপানোর জন্য নতুন নতুন প্রকাশনীর আবির্ভাব ঘটেছে। আনেকে নিজের লেখা নিজেই টাইপ করে দেয়। ওরা শুধু প্রেসে ছাপা আর বাইন্ডিংয়ের কাজ করেন। টাকার বিনিময়ে সব কিছুই সম্ভব। একজনের লেখা আরেকজনের নামে চালিয়ে দেওয়া যায়। মেলায় কামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, তরুন লেখকরা নিজেদের প্রতিভা দিয়ে লিখে। সেটা আমারা যদি না পড়ি তাহলে নতুন লেখকের পাঠক কীভাবে তৈরি হবে। তাই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গত ছয় দিনে মেলায় নতুন মোট বই এসেছে ৫৩৯টি। এদেরে মধ্যে গোটা কয়েক বাদে বাকি সবকটি বই তরুণ লেখকদের। প্রথম ও দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত বইয়ের সংখা বেশি। তরুণ লেখক সুমন নূরের দ্বিতীয় বই প্রকাশ হয়েছে। তিনি বলেন, আমার প্রথম বই ২০১৭ সালের বই মেলায় প্রথম এসেছিল। আমি চাই প্রতিবছর অন্তত একটি করে বই বের করতে। জোবায়দা আক্তার চৌধুরীর প্রথম বই প্রকাশ হয়েছে এবারের বই মেলায়। বই সম্পর্কে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল। মাঝেমধ্যে কবিতা লিখতাম। এবার সবগুলো কবিতা নিয়ে একটি বই আকারে প্রকাশ করেছি। আজ থেকে লেখার প্রতিআগ্রহ আরো বাড়ছে।

এ বিষয়ে পাঠকনন্দিত লেখক আনিসুল হক বলেন, এ দেশে নতুন লেখকের সংখ্যা বাড়ছে এটা সত্য। তবে পাঠক প্রিয়তা অর্জন করতে হলে সাধনা করতে হয়। একটি বিষয়ের ওপর লিখতে হলে সেই বিষয় সম্পর্কে বিস্তর জানতে হবে। প্রতিনিয়ত লিখে যেতে হবে। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। সময় প্রকাশনীর মালিক ফরিদ আহমেদ বলেন, আমাদের প্রকাশনীতে নতুন লেখকের বই প্রকাশ হয়। তবে আমার বইয়ের গুণগত মান বিবেচনায় প্রকাশ করি।

গতকাল মঙ্গলবার মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ২০টি, উপন্যাস ২৯টি, প্রবন্ধ ছয়টি, কবিতা ৪৩টি, ছড়া একটি, শিশুসাহিত্য পাঁচটি, জীবনী চারটি, ভ্রমণ দুটি, ইতিহাস পাঁচটি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য একটি, নাটক একটি, মুক্তিযুদ্ধের তিনটি, বিজ্ঞান দুটি, অভিধান একটি, সায়েন্স ফিকশন তিনটি অন্যান্য ১২টি বইসহ মোট ১১৬টি নতুন বই এসেছে।

আজকের আয়োজন : আজ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি আবদুল গফ্ফার দত্ত চৌধুরী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শুভেন্দু ইমাম। আলোচনায় অংশ নেবেন আলী মোস্তাফা চৌধুরী, জফির সেতু ও মোস্তাক আহমাদ দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পিডিএসও/তাজ